রাজকুমার দাস চুরাইবাড়ি ১০ জানুয়ারি : ত্রিপুরা আগর চাষি ও ক্ষুদ্র আগর শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে রাজ্য আগর উড অ্যাসোসিয়েশন, বনদপ্তর এবং রাজ্য সরকার নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। বিশেষ করে উত্তর জেলায় আগর চাষের ফলন বেশি হওয়ায় এই জেলাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে সর্বাধিক। এক সময় আগর চাষিরা নিজেদের জমিতে উৎপাদিত আগর গাছ অবৈধভাবে বিক্রি করতে বাধ্য হতেন। তবে রাজ্য বনদপ্তরের বিশেষ উদ্যোগে আইনি জটিলতা অনেকটাই কাটিয়ে বর্তমানে বহু চাষি ও ব্যবসায়ী বৈধভাবে আগর ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। যদিও এই বহুমূল্য আগর গাছের উৎপাদন নিয়মিতভাবে বাজারজাত করতে এখনও নানা সমস্যা রয়ে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে কদমতলার বড়গোল এলাকায় উত্তর জেলা বনদপ্তরের উদ্যোগে একটি আগর মার্কেট শেড নির্মাণ করা হয়েছে। এদিকে উত্তর জেলার আগর মার্কেট ও শিল্প খতিয়ে দেখতে শনিবার দুপুর দুইটা নাগাদ ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এমনকি আন্তর্জাতিক স্তরের ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ঝাঁক প্রতিনিধি দল কদমতলার ফুলবাড়িতে অবস্থিত মামুন এন্টারপ্রাইজ কারখানা পরিদর্শনে আসেন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন রাজ্য বনদপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকসহ জেলা বনদপ্তরের সমস্ত আধিকারিকেরা। এর আগে প্রতিনিধি দলটি মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় আগর বাগান পরিদর্শন করেন। পরে মামুন ইন্ডাস্ট্রিতে পৌঁছে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি মামুন ইন্ডাস্ট্রির মালিক আনফর আলীর বাড়িতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত একাধিক কারখানার মালিকরা তাঁদের তৈরি আগর উড চিপস, আগর অয়েলসহ বিভিন্ন সামগ্রী প্রদর্শনের জন্য সাজিয়ে বসেন। এদিন পরিদর্শনে আসা ব্যবসায়ীরা প্রায় ১০ থেকে ১২ লক্ষ টাকার আগর সামগ্রী ক্রয় করে নিয়ে যান বিদেশি ব্যবসায়ীরা।এদিকে রাজ্য বনদপ্তরের এক আধিকারিক জানান, ত্রিপুরার আগর শিল্পকে টিকিয়ে রাখতেই এই বিশেষ উদ্যোগ। গত ৮ ও ৯ জানুয়ারি আগরতলায় দেশ-বিদেশের ব্যবসায়ীদের নিয়ে একটি প্রদর্শনী ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহাও উপস্থিত ছিলেন। সেখান থেকেই আন্তর্জাতিক মানের একদল ব্যবসায়ী উত্তর জেলায় পরিদর্শনে আসেন। লক্ষ্য একটাই-ত্রিপুরার আগর উড, চিপস ও অয়েলকে বিশ্বের বাজারে প্রতিষ্ঠিত করা।