তেলিয়ামুড়া প্রতিনিধি: দীর্ঘদিনের চেনা জৌলুস যেন এবছর আর চোখে পড়েনি তেলিয়ামুড়া মহকুমার চাকমাঘাটে অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী পৌষ সংক্রান্তি মেলায়। প্রথমেই চোখে পড়ে মেলার ফ্লেক্স ও নিমন্ত্রণপত্রে একাধিক ভুলত্রুটি। আরও বিস্ময়কর বিষয় হল—তেলিয়ামুড়া মহকুমার অন্তর্ভুক্ত তেলিয়ামুড়ার বিধায়িকা কল্যাণী সাহা রায় এবং কল্যাণপুরের বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরীর নাম নিমন্ত্রণপত্রে অনুপস্থিত। এই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। যদিও এর প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়, তবে বিভিন্ন মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। মেলায় আগত একাধিক দোকানদার অভিযোগ করেন, মেলা কমিটি ও পুলিশের বাধার কারণে তাঁরা নির্দিষ্ট সময়ে দোকান খুলতে পারেননি, যার ফলে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে তাঁদের। অন্যদিকে, অনুষ্ঠান মঞ্চের সামনেও দেখা যায় হতাশাজনক চিত্র। দীর্ঘ সময় ধরে ফাঁকা পড়ে থাকে চেয়ার। যেখানে উদ্বোধকসহ অতিথির সংখ্যা ছিল প্রায় ২১ জন, সেখানে দর্শকসংখ্যা ছিল হাতে গুনা। দুর্ভাগ্যজনক দৃশ্যটি লক্ষ্য করা যায় পুরোহিত ও নাপিতদের জন্য উপযুক্ত কোনও ব্যবস্থার অভাবে। তাঁদের খোলা আকাশের নিচেই বসে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে হয়েছে। এই সমস্ত অব্যবস্থার মাঝেও অন্যান্য বছরের মতো এবছরও পুণ্যার্থীদের তাঁদের পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ করতে দেখা যায় এই পৌষ সংক্রান্তি মেলায়। মেলার উদ্বোধক তথা রাজ্যের জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা জানান, আগামী বছর থেকে এই পৌষ সংক্রান্তি মেলাকে দুই দিনব্যাপী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে আরও বৃহৎ পরিসরে আয়োজন করা সম্ভব হয়।