ত্রিপুরা প্রত্যয় প্রতিনিধি,তেলিয়ামুড়া,৩ ফেব্রুয়ারি।। চরম অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে খোয়াই জেলাশাসকের উদ্যোগে মঙ্গলবার কৃষ্ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের চাকমাঘাট ব্যারেজ সংলগ্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত হলো ‘ডি.এম জনতার দরবার’। এই কর্মসূচির সার্বিক আয়োজন করে তেলিয়ামুড়া মহকুমা প্রশাসন। খোদ মহকুমা শাসক অপূর্ব কৃষ্ণ চক্রবর্তী নিজে সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানালেও বাস্তবে তাঁদের জন্য অপেক্ষা করছিল চরম অব্যাবস্থা ও অপমানজনক পরিস্থিতি। অনুষ্ঠানের মঞ্চে পৌঁছে দেখা যায়, সাংবাদিকদের জন্য কোনও বসার ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে মাটিতে বসেই সংবাদ সংগ্রহ ও কভারেজ করতে হয় তাঁদের। অভিযোগ উঠেছে, জেলা শাসকের অফিসে কর্মরত এক সরকারি কর্মচারী রতন কলই সংবাদ সংগ্রহে ব্যস্ত সাংবাদিকদের তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে তাঁদের কাজ আরও বিঘ্নিত হয় এবং অপমানের মাত্রা বাড়ে। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়, সাংবাদিকদের এই করুণ অবস্থার দৃশ্য চোখের সামনে থাকলেও চেয়ারে বসে থাকা জেলাশাসক, মহকুমা শাসক সহ অন্যান্য শীর্ষ আধিকারিকরা ছিলেন সম্পূর্ণ নীরব। কেউই এই অব্যাবস্থার দিকে নজর দেওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি। গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের প্রতি এমন আচরণ প্রশাসনের মানসিকতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। যেখানে জনতার সমস্যা শোনার জন্য মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে, সেখানে সেই সমস্যার খবর জনতার কাছে পৌঁছে দেওয়া সাংবাদিকদেরই অবহেলার শিকার হতে হয়েছে। এই ঘটনায় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে জনতার দরবারে আসা সাধারণ মানুষও পড়েছেন দুর্ভোগে। প্রখর রোদে মাথার উপর কোনও ছাউনি না থাকায় দাঁড়িয়েই পরিষেবা নিতে হয়েছে তাঁদের। মহারানীপুর এলাকার এক বৃদ্ধা মহিলা সংবাদমাধ্যমকে জানান— এই পরিস্থিতিতে আমাদের অনেকটা অসুবিধা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, এই অব্যবস্থাপনার জন্য প্রশাসন কোনও দায়িত্ব নেয় কি না, নাকি বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। জনতার দরবারে জনতা ও সাংবাদিকদের প্রতি এমন অবহেলা নিঃসন্দেহে প্রশাসনের ভাবমূর্তি'কে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।।