ত্রিপুরা প্রত্যয় প্রতিনিধি,উদয়পুর, ৫ ফেব্রুয়ারি: বৃহস্পতিবার থেকে উদয়পুর কে. বি.আই ময়দানে শুরু হয়েছে ৩য় গোমতি জেলা ভিত্তিক সরস মেলা l একই সঙ্গে শুরু হয়েছে জেলা ভিত্তিক সবজি, ফুল এবং জৈব উৎপাদনের প্রর্দশনী ও প্রতিযোগিতা এবং জেলা ভিত্তিক মৎস্য উৎসব l ত্রিপুরা গ্রামীণ জীবিকা মিশন , ডিস্ট্রিক্ট মিশন ম্যানেজমেন্ট ইউনিট, গ্রামোন্নয়ন দপ্তর, মৎস, কৃষি ও উদ্যোন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত পাঁচ দিন ব্যাপী এই মেলা ও উৎসবের সূচনা করেন অর্থ মন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায় l এই মেলায় জেলার কৃষি, উদ্যান, মৎস ও ত্রিপুরা গ্রামীণ জীবিকা মিশনের মোট আশিটি স্টল অংশ নিয়েছে l উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে 46 টি লাখ পতি দিদির সাফল্য সম্বলিত গোমতি লাখ পতি দিদির স্মরণিকা প্রকাশ করেন উপস্থিত অতিথিগণ l একই সঙ্গে টেপানিয়া ব্লকের লাখ পতি দিদিদের নতুন উৎপাদিত তিনটি জিনিসের উন্মোচন করেন l জেলার আটজন সেরা লাখ পতি দিদিকে আজ সন্মান জানানো হয় l আবার সম্প্রতি রাজ্য ভিত্তিক সরস মেলায় জেলার পাঁচ জন লাখো পতি দিদিকে সম্মানিত করা হয় l অমরপুর ব্লকের চুমকি পাল, করকরাবন ব্লকের পাখি দাস, করবুক ব্লকের রংমালা বিবি, কিল্লা ব্লকের গন্ধরা লক্ষ্মী মলসোম, মাথাবাড়ি ব্লকের দেবিকা শীল, পম্পি ব্লকের কনক দে l রাজ্যভিত্তিক ষোড়স মেলায় গোমতী জেলার সেরা মহিলা শক্তিভিদ সারদামণি এসি গ্রুপ কাকরাবোনের ত্রিপুরেশ্বরী এস এস জি মাতাবাড়ি ব্লকের গ্রুপ কেও সম্মানিত করা হয় l ব্লক ভিত্তিক শ্রেষ্ঠ মৎস্য চাষী হিসেবে অমরপুরের যুবরাজ জমাতিয়া এমপি ধানে বিজয়জামাতিয়া বোনের সজল জমাতিয়া এবং চন্দন পালকেও সম্মানিত করা হয় l স্বাগত ভাষণে অতিরিক্ত জেলা শাসক সঞ্জীব দেব বর্মা বলেন, জেলায় বর্তমানে 67 হাজার পরিবার স্ব সহায়ক দল রয়েছে l এর মধ্যে 18 হাজার 500 লাখ পতি দিদি, 60 হাজার 500 টি গ্রুপ l আগামী এক বছরের মধ্যে জেলায় 72 হাজার পরিবার স্বসহায়ক দলে পরিণত হবে l উদ্ভোধকের ভাষণে অর্থ মন্ত্রী বলেন, প্রধান মন্ত্রীর ভোকাল ফর লোকাল এবং স্বদেসী পণ্যের মাধ্যমে দেশের গ্রামীণ অর্থনীতির বুনিয়াদ শক্তিশালী হবে l স্ব সাহয়ক দলের নারীরা আজ সাবলম্বী l মহিলা স্বশক্তিকরণে রাজ্য সরকার অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে বলেন অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায় l প্রত্যেক মহিলাকে রোজগারের আওতায় আনাই বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। মহিলা স্বশক্তিকরণে রাজ্য সরকার একাধিক জনমুখী পরিকল্পনা রূপায়ণ করে চলেছে। মন্ত্রী বলেন, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে মহিলারা আজ আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন এবং সমাজ ও অর্থনীতির মূল স্রোতে যুক্ত হচ্ছেন। এ ধরনের মেলার মাধ্যমে গ্রামীণ মহিলাদের উৎপাদিত সামগ্রী বাজারজাত করার সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে, যা তাঁদের আত্মবিশ্বাস ও কর্মসংস্থানের পথ আরও সুদৃঢ় করছে। মন্ত্রী বলেন, ভারতকে শক্তিশালী করতে হলে গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা অত্যন্ত জরুরি। সেই লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। গ্রামীণ উৎপাদন ও দেশীয় পণ্যকে উৎসাহিত করতেই সরস মেলার মতো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বসহায়ক দলের মহিলাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাঁদের আত্মনির্ভরতার পথে এগিয়ে চলার আহ্বান জানান। অর্থমন্ত্রী শ্রীসিংহ রায় আরও বলেন, গ্রামীণ এলাকার সঙ্গে শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন অনেক উন্নত হয়েছে। উন্নত সড়ক, পরিবহণ ও অবকাঠামোর ফলে গ্রামের মানুষ এখন খুব সহজেই তাদের উৎপাদিত পণ্য শহরের বাজারে নিয়ে আসতে পারছেন। এরফলে একদিকে যেমন কৃষক ও উৎপাদকরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন, অন্যদিকে শহরের বাজারেও তাজা ও মানসম্মত পণ্যের সরবরাহ বেড়েছে। সামগ্রিকভাবে এই উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করছে এবং শহর গ্রামের দূরত্ব কমিয়ে আনছে। মন্ত্রী বলেন, রাজ্যে প্রায় ৫৫ হাজার স্বনির্ভর সহায়ক দল রয়েছে। রাজ্যে লাখপতি দিদির সংখ্যাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে গোমতী জেলায় ১৫ হাজার ৭৪০ জন লাখপতি দিদি রয়েছেন। এরফলে মহিলাদের আত্মবিশ্বাস যেমন বেড়েছে, তেমনি পারিবারিক আয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, দিদিরা এখন স্বাস্থ্যসম্মত অর্গানিক আবির প্রস্তুত করছেন, যা পরিবেশবান্ধবের পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্যের পক্ষেও নিরাপদ। তিনি বলেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন, যাতে আত্মনির্ভরশীলতা বাড়ে এবং স্থানীয় অর্থনীতি মজবুত হয়। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে 'ড্রোন দিদি' প্রকল্প চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে মহিলারা আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় কৃষিকাজে ড্রোনের ব্যবহার করতে পারছেন। এতে কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং মহিলাদের আর্থিক ক্ষমতায়ন আরও সুদৃঢ় হচ্ছে। অনুষ্ঠানে উদয়পুর পুরপরিষদের চেয়ারপার্সন শীতল চন্দ্র মজুমদার বলেন, মহিলাদের উন্নতি হলে পরিবারের উন্নয়ন হবে। রাজ্যের তথা দেশের উন্নয়ন হবে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন গোমতী জেলার ভারপ্রাপ্ত জেলাশাসক সুভাষ আচার্য। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন গোমতী জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক (পিপি) সঞ্জিত দেববর্মা। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন গোমতী জিলা পরিষদের সভাধিপতি দেবল দেবরায়। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক জিতেন্দ্র মজুমদার, মাতাবাড়ি এবং টেপানিয়া পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান যথাক্রমে শিল্পী দাস এবং ঝর্ণা রাণী দাস প্রমুখ। জেলাভিত্তিক সরস মেলায় ৮০টি স্টল খোলা হয়েছে। স্বসহায়ক দলের মহিলারা তাঁদের উৎপাদিত সামগ্রী নিয়ে এই মেলায় অংশ নিয়েছেন। এদিন সব্জি, ফুল উৎপাদনের প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতা এবং জেলাভিত্তিক মৎস্য উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এই মেলা আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে।