ত্রিপুরা প্রত্যয় প্রতিনিধি, ধর্মনগরঃ গত ২৬ইং জানুয়ারি থেকে ৩ইং ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ৬৯তম ন্যাশনাল স্কুল গেমস (থাং-টা মার্শাল আর্ট) প্রতিযোগিতায় অনূর্ধ্ব-১৭ বালক বিভাগে ৫৬ কেজি ওজন শ্রেণিতে স্বর্ণপদক অর্জন করে কাঞ্চনপুর তথা গোটা ত্রিপুরা রাজ্যের নাম উজ্জ্বল করল কাঞ্চনপুরের প্রতিভাবান কিশোর সোমন মালাকার। সোমন মালাকার কাঞ্চনপুর শহর সংলগ্ন সুব্রতনগর গ্রামের বাসিন্দা । সে রাজ্য সরকারের এগ্রিকালচার দপ্তরের কর্মচারী জয়ন্ত মালাকারের পুত্র এবং কাঞ্চনপুর ব্লক টিলা হাই স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র। পড়াশোনার পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি তার ছিল অসাধারণ আগ্রহ ও নিষ্ঠা। জানা যায়, প্রথমে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় স্তরের এই প্রতিযোগিতায় রাজ্য দলের হয়ে অংশগ্রহণের জন্য সোমনের নির্বাচনের পর তার মা-বাবা তাকে বাইরে পাঠাতে রাজি ছিলেন না। পরবর্তী সময় সোমনের কোচ বিশ্বজিৎ নাথ নিজে বেশ কয়েকবার সোমনের বাড়িতে গিয়ে ওর মা-বাবাকে বোঝান এবং উৎসাহিত করেন ।। এরপর ২১ জানুয়ারি রাজ্য দলের সঙ্গে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেয় সোমন। তারই ফলস্বরূপ ৩০ইং জানুয়ারি অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় অনূর্ধ্ব-১৭ বালক বিভাগে ৫৬ কেজি ওজন শ্রেণিতে স্বর্ণপদক জিতে ইতিহাস গড়ে সে। উল্লেখযোগ্যভাবে, একই প্রতিযোগিতায় রাজ্যের ১৬ জনের দলে আরেক খেলোয়াড় সিপাহীজলা জেলার ধোনিরামপুর গ্রামের রিঙ্কু দেববর্মা অনূর্ধ্ব-১৪ বালক বিভাগে ৪৮ কেজি ওজন শ্রেণিতে ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করে রাজ্যের সম্মান বৃদ্ধি করে। এদিকে সোমনের এই সাফল্যে এলাকাবাসী, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও গর্বের আবহ তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ভবিষ্যতে রাজ্য ও দেশের হয়ে আরও বড় সাফল্য এনে দেবে এই উদীয়মান ক্রীড়াবিদ।। রবিবার কাঞ্চনপুরে স্থানীয় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সোমন মালাকার জানায় ,,এই মেডেল আমি পেয়েছি শুধুমাত্র আমার মা-বাবা এবং কোচ বিশ্বজিৎ নাথের জন্য। আগামী দিনেও আমি নিয়মিত খেলা চালিয়ে যাব।বাইট........... পরবর্তী সময় কোচ বিশ্বজিৎ নাথ সুমনের ভবিষ্যতের সাফল্য কামনা করেন এবং বলেন ভবিষ্যতেও সোমন যেন এভাবেই রাজ্য ও দেশের নাম উজ্জ্বল করে পাশাপাশি তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ও স্পোর্টস ডিরেক্টরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি জানান, অন্যান্য রাজ্যে যেখানে থাং-টা মার্শাল আর্টে অনূর্ধ্ব-১৪, ১৭ ও ১৯ তিনটি ক্যাটাগরিতে ছেলে-মেয়েরা অংশগ্রহণের সুযোগ পায়, সেখানে ত্রিপুরা থেকে শুধুমাত্র অনূর্ধ্ব-১৪ ও ১৭ ক্যাটাগরিতে খেলোয়াড় পাঠানো হয়। এর ফলে অনূর্ধ্ব-১৭ বিভাগের খেলোয়াড়রা পরবর্তীতে অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় স্তরে খেলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়, যা তাদের খেলাধুলার আগ্রহ নষ্ট করে দেয়। এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার জন্য তিনি করজোড়ে রাজ্য সরকারের নিকট আবেদন জানান।