রাজকুমার দাস চুরাইবাড়ি ৮ জানুয়ারি : আসামের পাথারকান্দি সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বৃহৎ উচ্ছেদ অভিযান শুরু করলো আসাম সরকার।পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী রবিবার পাথারকান্দি বিধানসভা সমষ্টির বিভিন্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন। সংরক্ষিত বনভূমিতে বেআইনিভাবে বসবাসকারী পরিবারগুলির বিরুদ্ধে নেওয়া হয়েছে এই কঠোর পদক্ষেপ।জানা গেছে, উচ্ছেদ অভিযানের আগেই বন বিভাগের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলিকে সরকারি নোটিশ জারি করা হয়। নোটিশের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর গত কয়েক দিনে বহু পরিবার নিজেদের আসবাবপত্র গুছিয়ে স্বেচ্ছায় এলাকা ছেড়ে অন্যত্র সরে যান। তবে যারা এখনও বনাঞ্চল ছাড়েননি, তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে।সূত্রের খবর, প্রায় দশ হাজার পরিবারের কাছে উচ্ছেদ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তালিকায় রয়েছে পাথারকান্দি বিধানসভা এলাকার ইছারপার, মাধবপুর, বালিয়া, মধুরবন্দ, ছাগলমোয়া, মাগুরা, যোগীছড়া এবং চাঁদপুর-সহ একাধিক সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বসবাসকারী পরিবার। গত কয়েক দিনে গুগল ম্যাপ, জিপিএস প্রযুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি নথিপত্র যাচাই করেই অবৈধ দখলদারদের চিহ্নিত করা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।অভিযান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে প্রায় শতাধিক বুলডোজার, একাধিক প্রশিক্ষিত হাতি এবং ৩০০-রও বেশি কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন ডিএফও, এসিএফ, রেঞ্জ অফিসার, ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ বাহিনী, বিএসএফ, ব্ল্যাক কমান্ডো ইউনিট, আধাসামরিক বাহিনী ও বিশেষ প্রোটেকশন টিমের সদস্যরা। নিরাপত্তাজনিত কারণে উচ্ছেদস্থলে সংবাদকর্মীদের প্রবেশেও সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন।এই অভিযানে অবৈধ বসতবাড়ির পাশাপাশি রবার বাগান, সুপারি বাগান এবং অবৈধভাবে গড়ে তোলা ফিসারিগুলিও গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। বন বিভাগের ডিএফও অমল আর বরহাদি জানান, আগামী আরও অন্তত তিন দিন এই উচ্ছেদ অভিযান চলবে এবং অভিযান শেষে প্রায় তিন হাজার বিঘা সরকারি বনভূমি দখলমুক্ত হবে বলে আশাবাদী প্রশাসন। যদিও প্রশাসনের বৃহত্তর পরিকল্পনা অনুযায়ী মোট ১২ হাজার হেক্টর ভূমি ধাপে ধাপে দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।